অফিস ডেস্ক
নওগাঁ জেলার মান্দা থানার চকদেবীরাম গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের সময় ধারণকৃত অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিকভাবে বিতর্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যে ছড়ানোর অভিযোগে দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিউল এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোরশেদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই সময় মোরশেদ তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে রবিউল মেয়েটিকে বিয়ে না করে বরং ধারণকৃত ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। ওই তরুণীর পরবর্তীতে ঢাকার বিক্রমপুর এলাকায় বিয়ে হয়। কিন্তু রবিউল সেই অশ্লীল ভিডিও মেয়েটির স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে মেয়েটির সংসার ভেঙে যায় এবং তিনি আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।
আজ আসামিদের উপস্থিতিতে আসামি রবিউল ইসলাম ও মোরশেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় পড়ে শুনানো হয়।
এছাড়া অপর আসামি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে খালাস দিয়েছেন। আসামিদের সাজা পরোয়ানা মূলে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।
রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশীদ চৌধুরী ও আতিয়ার রহমান উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।